বেনামাজির শাস্তি এবং নামাজির লাভ জেনে নিন।

নবী করিম (সাঃ) বলেছেন- যে কোরআন পড়িয়া ভুলিয়া যায় কেয়ামতের দিন সে আল্লাহর সহিত কান ও নাক কাটা অবস্থায় সাক্ষাৎ করিবে।

বেনামাজীর শাস্তি...!

নামাজ ত্যাগ করিলে, রীতিমত আদায় না করিলে তাহার

উপরে ১৫টি আজাব নাজিল হইবে...

দুনিয়াতে ৬টি

মৃত্যুর সময় ৩টি

কবরের মধ্যে ৩টি

হাশরের মাঠে ৩টি..

.

দুনিয়াতে ৬টি আজাব হলো-

১। বেনামাজীর হায়াত কমিয়া যাইবে।

২। বেনামাজীর জীবনে বরকত হইবে না।

৩। বেনামাজীর চেহারার সৌন্দর্য্য থাকিবে না।

৪। বেনামাজীর কোন দোয়া কবুল হইবে না।

৫। বেনামাজীর সব নেকী বরবাদ হইবে।

৬। বেনামাজীর নিকট হইতে সব রহমতের ফেরেশতা

ভাগিয়া যাইবে এবং এক সময় ইসলাম হইতে খারিজ

হইয়া যাইবে।

.

মৃত্যুর সময় ৩টি আজাব হলোঃ

১। বেনামাজী মরিবার সময় অপমানিত, লাঞ্চিত ও

শিদ্দাত (অতিকষ্ট) দিয়া জান বাহির করা হইবে।

২। বেনামাজী ক্ষুধার্ত অবস্থায় মরিবে।

৩। বেনামাজীর মৃত্যুর সময় এত পিপাসা হবে যে, মনে

চাইবে ৭ দরিয়ার পানিও যদি মুখে ঢালিয়া দেয় তবুও

বুঝি পিপাসা যাইবে না।

.

কবরের মধ্যে ৩টি আজাব হলোঃ

১। বেনামাজীর কবর চাপিয়া আসিয়া তাহাকে পিষিতে

থাকিবে। ইহাতে তাহার এক পাজরের হাড়েঁর সহিত

মিশিয়া যাইবে।

২। বেনামাজীর কবরে দাউ দাউ করিয়া আগুন জ্বলিবে।

৩। বেনামাজীর কবরে বিরাট বিরাট সাপ আসিয়া ভরিয়া

যাইবে এবং এক ফেরেশতা আসিয়া জোরে জোরে গুর্জ

মারিতে থাকিবে।

.

হাশরের মাঠে তিনটি আজাব হলোঃ

১। বেনামাজিকে আল্লাহ পাক গজবের সহিত ডাকিবেন

এবং বিরাট এক সাপ আসিয়া তাহাকে খোঁজ করিতে

থাকিবে।

২। ত্রিশ হাজার বৎসরের পুলছেরাতের রাস্তা হিরার

চেয়ে ধারাল, চুলের চেয়ে চিকন, আমাবশ্যার রাত্রের

চেয়ে অন্ধকার বেনামাজী যখন সেই পুলের উপরে পা

রাখিবে সংগে সংগে পা কাটিয়া টুকরা টুকরা হইয়া

যাইবে।

৩। বেনামাজীর জন্য “ওয়াইল” নামজ দোজখ ঠিক

করিয়া রাখিয়াছেন, ফেরেশতা কেয়ামতের দিন দোজখে

ফেলিয়া দিন ৭০ গজ জিঞ্জিরে বান্ধিয়া বহুত আজাব

দিবেন।

-

দুনিয়ার বেনামাজী বাদশাহকে বলা হবে কেন নামাজ পড়

নাই। সে বলবে ব্যস্ততার জন্য সময় পাই নাই। বলা

হবে, সোলায়মান (আঃ) সারা বিশ্বের রাজত্ব পাইয়াও

কোন দিন নামাজ ত্যাগ করেনি, তুমি মিথ্যা ওজর

করছ। হে ফেরেশতারা! ওকে জাহান্নামে নিয়া যাও।

রোগী বলবে, রোগের জ্বালায় নামাজ পড়তে পারি নাই।

বলা হবে, আইয়ুব (আঃ) কে ১৮ বৎসর পোকায় খেয়েছে

তবুও সে নামায ছাড়ে নি। মিথ্যাবাদীকে জাহান্নামে

ফালাও।

.

আর একজনে বলবে সন্তান অনেক ছিল তাদের সেবায়

ব্যস্ত ছিলাম, বলা হবে ইয়াকুব (আঃ) এর ছেলে মেয়ে

তোমার চেয়েও বেশি ছিল। ইউসুফের জন্য কাঁদতে

কাদঁতে অন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তবু নামাজ ছাড়ে নি।

মিথ্যাবাদীকে জাহান্নামে নাও।

বেনামাজী স্ত্রী লোককে হাজির করা হবে। সে বলবে

স্বামীর কাজের চাপে তাহার ভয়ে নামাজ পড়তে পারি

নাই। বলা হবে ফেরাউনের বিবি আছিয়ার স্বামী বড়

জালিম না তোমার স্বামী বড় জালিম? জালিমের বিবি

হয়েও আছিয়া নামায ছাড়ে নি। তুমি মিথ্যা ওজর করছ,

হে ফেরেশতারা ওকে জাহান্নাম নিক্ষেপ কর।

.

আমার নবী (সাঃ) বলেন, বেনামাজীর দুই হাত জিঞ্জির

দ্বারা বান্ধা হইবে। অতঃপর ফেরেশতাগণ তাহার

মুখমন্ডলে ও পৃষ্ঠে আঘাত মারিতে থাকিবে। তখন

বেহেশত তাহাকে ডাকিয়া বলিবে, ওহে আল্লাহর শত্রু!

আমার সহিত তোমার কোন সম্পর্ক নাই। আমিও

তোমার নই এবং তুমি আমার নও,

তখন দোজখ তাহাকে ডাকিয়া বলিবে। আস! আস!

আমার নিকটে আস! আমি তোমার তুমি আমার।

হাদীসে আল্লাহর নবী (সাঃ) বলেন, জাহান্নামে

“লমলম” নামে একটি জায়গা আছে দেখিতে উটের

গর্দ্দানের মত দেখায় এবং এক মাসের পথের ন্যায়

দীর্ঘ্য, ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর সাপ দ্বারা ঐ জায়গাটা

পরিপূর্ণ, সেখানে বেনামাজীদেরকে ফালাইয়া দেওয়া

হইবে।

লক্ষ লক্ষ ভয়ঙ্কর সাপগুলো বেনামাজীদেরকে পেঁচ

দিয়া ধরিয়া মনের আনন্দে দংশন করিতে থাকিবে।

.

ভাই ও বোনেরা আমার! আল্লাহ পাকের কাছে পানাহ

চান ও পিছনের নামাজ কাজা করুন।

অন্য এক হাদীসে হুজুরে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম বলেন, দোজখের মধ্যে “জুব্বুল হুযুন” নামে

বিরাট আকারের একটি ময়দান আছে, উহা শুধু বিচ্ছু

দ্বারা পরিপূর্ণ। এক একটি বিচ্ছু খচ্চরের মত উঁচু ও

মোটা। বেনামাজীদেরকে দংশন করার জন্যই উহাদিগকে

সৃষ্টি করা হইয়াছে।

আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন এবং সঠিক পথ

প্রদর্শন করুন। নামায পড়তে মাত্র কয়েক মিনিট সময়

লাগে, আসুন আমরা সকলেই পাঁচ ওয়াক্ত নামায

ওয়াক্ত মতো পড়ার জন্য চেষ্টা করি।

আমিন.

যখন তোমার বয়স ১০;

তখন তুমি খুঁজবে

'খেলার

মাঠ' কোথায়?.

"

যখন তোমার বয়স ২০;

তখন তুমি খুঁজবে'boy

friend/girl friend'

কোথায়?.

"

যখন তোমার বয়স ৩০;

তখন তুমি খুঁজবে

'টাকা'

কোথায়? "

.

যখন তোমার বয়স ৪০;

তখন তুমি খুঁজবে একটু

'অবসর সময়' কোথায়?.

.

" আর যখন তোমার

বয়স ৫০ হবে;

তখন তুমি হয়তো

খুঁজবে

'মসজিদ' কোথায়?.

.

কিন্তু ৫০ আসার

আগেই হয়তো তোমার

সময় শেষ হয়ে

যেতে পারে..।

.

সুতরাং শেষেরটাকে

আগে খুঁজায় শ্রেয়।।

.

*কাজেই সময়

থাকতেই পাঁচ

ওয়াক্ত ফরয।

নামাযের প্রতি গুরুত্ব

দিন।



ফজরের নামাযে আটটি লাভ। প্রথম লাভ: ফজরের নামাযে দাঁড়ানো, সারা রাত দাঁড়িয়ে নামায পড়ার সমান: = যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ঈশার নামায আদায় করলো, সে যেন অর্ধেক রাত জেগে নামায পড়লো। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামাতের সাথে পড়লো, সে যেন পুরো রাত জেগে নামায পড়লো (মুসলিম)। . দ্বিতীয় লাভ: সে দিনের পুরোটা আল্লাহর যিম্মায় থাকার দুর্লভ সৌভাগ্য। ফজরের নামায পড়লেই শুধু এ-ঈর্ষণীয় সৌভাগ্য লাভ করা যাবে। = যে ব্যক্তি ফজরের নামায পড়বে, সে আল্লাহর যিম্মায় থাকবে (মুসলিম)। . তৃতীয় লাভ: ফজরের নামায কেয়ামতের দিন নূর হয়ে দেখা দিবে। = যারা রাতের আঁধারে মসজিদের দিকে হেঁটে যায়, তাদেরকে কেয়ামতের দিন পরিপূর্ণ ‘নূর’ প্রাপ্তির সুসংবাদ দাও (আবু দাউদ)। . চতুর্থ লাভ: সরাসরি জান্নাত প্রাপ্তি। = যে ব্যক্তি দুই শীতল (নামায) পড়বে, জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর দুই শীতল (নামায) হলো ফজর ও আসর (বুখারী)। . পঞ্চম লাভ: রিযিকে বরকত আসবে। ফজর নামাযটা পড়লেই হবে। আল্লামা ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেছেন: -সকাল বেলার ঘুম ঘরে রিযিক আসতে বাধা দেয়। কেননা তখন রিযিক বন্টন করা হয়। . ষষ্ঠ লাভ: ফজরের নামায পড়লে, দুনিয়া আখেরাতের সেরা বস্তু অর্জিত হয়ে যাবে। = ফজরের দুই রাকাত নামায, দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে, সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ (তিরিমিযি)। . সপ্তম লাভ: সরাসরি আল্লাহর দরবারে নিজের নাম আলোচিত হবে। = তোমাদের কাছে পালাক্রমে দিনে ও রাতে ফিরিশতারা আসে। তারা আসর ও ফজরের সময় একত্রিত হয়। যারা রাতের কর্তব্যে ছিল তারা ওপরে উঠে যায়। আল্লাহ তো সব জানেন, তবুও ফিরিশতাদেরকে প্রশ্ন করেন: -আমার বান্দাদেরকে কেমন রেখে এলে? -আমরা তাদেরকে নামাযরত রেখে এসেছি। যখন গিয়েছিলাম, তখনো তারা নামাযরত ছিল (বুখারি)। . অষ্টম লাভ: ফজরের নামায দিয়ে দিনটা শুরু করলে, পুরো দিনের কার্যক্রমের একটা বরকতম সূচনা হবে। = হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্যে, তার সকাল বেলায় বরকত দান করুন (তিরমিযী)। . . এজন্যই দিনের শুরুটা ভাল কিছু দিয়ে শুরু করা মানেই হলো, ফজর নামাযটা পড়া। আরও ভাল হয় যদি তাহাজ্জুদ দিয়ে শুরু করা যায়।

Post a Comment

0 Comments